
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পাওয়ার মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে বিশ্বশক্তিগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের হরমুজ প্রণালি অবরোধের ঘোষণার প্রেক্ষাপটে চীনের রাজধানী বেইজিং-এ পৌঁছেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রকাশিত ছবিতে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিতে দেখা গেছে।
চীন তার মোট তেল আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আগ্রাসন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনা করেছে বেইজিং ও মস্কো।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, “হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর নিরাপত্তা ও অবাধ চলাচল বজায় রাখা সবার স্বার্থে জরুরি।”
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের বন্দর কার্যক্রম সীমিত করে দেশটিকে চাপে রাখা। এতে চীনের মতো বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের মাধ্যমে তেহরানকে আলোচনায় ফিরিয়ে আনার কৌশলও রয়েছে।
এদিকে, এর আগে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি-র সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন ল্যাভরভ। রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাত এড়ানো এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই চীন-রাশিয়ার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। সর্বশেষ গত ৫ এপ্রিল চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে একমত হয় মস্কো।
বর্তমান সংকট মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের সঙ্গেও বৈঠক জোরদার করেছে বেইজিং। মঙ্গলবার সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট তো লাম-এরও চীন সফরের কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই উত্তেজনা কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


