হরমুজে অবরোধ ঘিরে নতুন সংকট: যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণা, ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি নতুন ও বিপজ্জনক মোড়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছে, সোমবার (১৩ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বন্দরগামী বা সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া সব জাহাজে অবরোধ (ব্লকেড) আরোপ করা হবে।

এই ঘোষণার পরপরই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটির এক মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের বন্দর নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে পারস্য উপসাগরওমান সাগর অঞ্চলের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে তারা ‘অবৈধ’ ও ‘সামুদ্রিক দস্যুতা’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

উত্তেজনার এই নতুন মাত্রা তৈরি হয়েছে তেহরানওয়াশিংটনর মধ্যে সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর। কোনো সমঝোতা ছাড়াই আলোচনা শেষ হওয়ায় দুই পক্ষই এখন আরও কঠোর অবস্থানে চলে গেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসনের এই অবরোধ ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে এবং শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কারণ, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়—যা উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রধান পথ।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর ইরান নিজেও এই প্রণালিতে শত্রুপক্ষের জাহাজ চলাচল বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিল। ফলে পরিস্থিতি এখন দ্বিমুখী অবরোধের ঝুঁকিতে পড়েছে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এই অবরোধ বাস্তবায়িত হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—বরং এশিয়া ও ইউরোপজুড়ে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হতে পারে। ইতোমধ্যে এশিয়ার কয়েকটি দেশে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করতে দেখা যাচ্ছে।