
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ফ্রান্সের অনাগ্রহ ঘিরে ওয়াশিংটন ও প্যারিসের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই ফরাসি প্রেসিডেন্ট Emmanuel Macron-কে ব্যক্তিগতভাবে কটাক্ষ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump।
গত বুধবার (১ এপ্রিল) এক ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে ট্রাম্প, ম্যাক্রোঁ ও তার স্ত্রী Brigitte Macron-কে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, ম্যাক্রোঁ নাকি তার স্ত্রীর কাছ থেকে ‘খারাপ আচরণের শিকার’—এমনকি ২০২৫ সালের একটি বিতর্কিত ভিডিওর প্রসঙ্গও টানেন।
এই মন্তব্যের জবাবে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়া সফরকালে ম্যাক্রোঁ বলেন, “এ ধরনের মন্তব্য শালীন নয়, মানসম্মতও নয়।” তিনি স্পষ্ট করেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য অগ্রহণযোগ্য।
উল্লেখ্য, ম্যাক্রোঁর চেয়ে প্রায় ২৫ বছর বড় তার স্ত্রী ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্কে এর আগেও সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এই দম্পতি। গত বছর ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলায় এক মার্কিন পডকাস্টারের বিরুদ্ধে মানহানি মামলাও করেছিলেন তারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যক্তিগত মন্তব্য আসলে বড় ধরনের নীতিগত বিরোধেরই প্রতিফলন। ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে ফ্রান্স সরাসরি অংশ নেয়নি। যদিও দেশটি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে, তবুও যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে সরাসরি সহায়তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
শুধু ফ্রান্স নয়, ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ—স্পেন ও ইতালিও—তাদের বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে মার্কিন হামলায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, Donald Trump ও Emmanuel Macron-এর মধ্যে একসময় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও, গত এক বছরে আন্তর্জাতিক নীতি ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের বিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক এই ব্যক্তিগত আক্রমণ সেই দ্বন্দ্বকেই আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।


