
বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিশেষ করে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। তারা সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) করার প্রস্তাব দিয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সাক্ষাৎ শেষে এসব তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চীনের সঙ্গে পর্যটন খাতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তবে এর অগ্রগতি হয়নি। সেই বিষয়েই আলোচনা করতে রাষ্ট্রদূত এসেছিলেন। চীন কক্সবাজারে বিনিয়োগ করে কীভাবে আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্রসৈকত গড়ে তোলা যায়, তা যাচাই করতে চায়।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, চীনের আগ্রহের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে। প্রস্তাব পাওয়ার পর তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেশের জন্য লাভজনক মনে হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জাপানের সঙ্গে চুক্তি পর্যালোচনার চেষ্টা চলছে। সমঝোতা হলে জাপানের মাধ্যমে কাজ করা হবে, নচেৎ উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হবে। টার্মিনাল চালু হতে আরও ছয় থেকে নয় মাস সময় লাগতে পারে।
চীন-বাংলাদেশ বিমান যোগাযোগের বিষয়ে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে চীনে সপ্তাহে ১২টি ফ্লাইট চলছে। চীন আরও তিনটি ফ্লাইট চালানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের আনুষ্ঠানিক আবেদন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এলে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করবে।
সাক্ষাৎ শেষে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, পর্যটন ও বিমান চলাচল—এই দুই খাতে বাংলাদেশ ও চীনের একসঙ্গে কাজ করার ভালো সুযোগ রয়েছে। চীনা পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশকে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা সম্ভব।


