ইরানকে নত করতে ব্যর্থ ‘সর্বোচ্চ চাপ’: ট্রাম্পের কৌশল নিয়ে নতুন প্রশ্ন

ইরানকে নত করতে ব্যর্থ ‘সর্বোচ্চ চাপ’: ট্রাম্পের কৌশল নিয়ে নতুন প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক সাক্ষাতকার

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এক সাক্ষাৎকারে Fox News–কে জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ধরনের হতাশা ও বিস্ময়ের মুখোমুখি। প্রশ্নটি সহজ-কেন ইরান কঠোর অর্থনৈতিক চাপ, ধারাবাহিক হুমকি এবং সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পরও নতি স্বীকার করছে না?

এই ‘বিস্ময়’ কেবল কূটনৈতিক হতাশা নয়; এটি একটি মানসিক কাঠামোর ইঙ্গিত দেয়। ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা ছিল, ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা, সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং কৌশলগত চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তেহরানকে একসময় সমঝোতায় বাধ্য করা যাবে। অর্থাৎ, ‘সর্বোচ্চ চাপ’ তৈরি করলে প্রতিপক্ষ শেষ পর্যন্ত খরচ কমাতে ছাড় দেবে এমন একটি ব্যবসায়িক যুক্তি দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার চেষ্টা।

কিন্তু এখানেই মূল ভুলপাঠ। ওয়াশিংটন ধরে নিয়েছিল, যেকোনো রাষ্ট্র বিধ্বংসী অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক হুমকির মুখে শেষ পর্যন্ত কৌশলগত স্বার্থের কিছু অংশ বিসর্জন দেবে। সেই যুক্তিতেই অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন, উন্নত যুদ্ধবিমান পাঠানো, সামরিক মহড়া বৃদ্ধি এবং নিষেধাজ্ঞা জোরদার সবই ছিল একটি পূর্বনির্ধারিত সমীকরণের অংশ।

এর পাশাপাশি গড়ে ওঠে একটি বর্ণনামূলক যুদ্ধ। বহু পশ্চিমা গণমাধ্যমে ইরানের অর্থনৈতিক সংকট, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও সামাজিক চাপের চিত্র তুলে ধরা হয়। এমনকি ‘কৌশলগত ভার্টিগো’ অর্থাৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিভ্রান্তির ধারণাও সামনে আনা হয়। উদ্দেশ্য ছিল এই বার্তা দেওয়া যে তেহরান চাপের মুখে দোদুল্যমান।

তবে বাস্তবতা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী রাষ্ট্রপ্রধান প্রশ্ন তোলেন কেন প্রতিপক্ষ নতি স্বীকার করছে না তবে সেটি প্রতিপক্ষের দৃঢ়তার চেয়ে নিজের কৌশলগত অনুমানের সীমাবদ্ধতাকেই বেশি প্রকাশ করে।

ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির সূচনায় ‘চুক্তি করার মানসিকতা’ স্পষ্ট ছিল। তিনি আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে ব্যবসায়িক দরকষাকষির সম্প্রসারণ হিসেবে দেখতেন যেখানে প্রতিটি পক্ষের একটি ‘ভাঙার সীমা’ থাকে। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে সেই হিসাব মেলেনি। কারণ রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত সবসময় অর্থনৈতিক খরচের সরল গাণিতিক ফল নয়; সেখানে আদর্শ, নিরাপত্তা-দর্শন, আঞ্চলিক প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ বৈধতার প্রশ্নও জড়িত।

ফলে প্রশ্নটি এখন ইরান কতটা চাপ সহ্য করতে পারছে তা নয়; বরং ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি নিজেই কতটা কার্যকর কৌশল ছিল সেই মূল্যায়নই সামনে চলে এসেছে।