
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত ধীরে ধীরে আরও অনিশ্চিত এক পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহ পার হতে চললেও কোনো পক্ষই এখনও পিছু হটার ইঙ্গিত দেয়নি। এখন পর্যন্ত কার্যকর যুদ্ধবিরতির উদ্যোগের কথাও শোনা যায়নি।
তবে শুক্রবার (৬ মার্চ) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, পরিস্থিতি শান্ত করতে কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা শুরু করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, কয়েকটি দেশ সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, স্থায়ী শান্তি বজায় রাখতে ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও দেশের মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে তারা কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, যারা ইরানের জনগণকে অবমূল্যায়ন করেছে এবং এই সংঘাতের সূচনা করেছে, মধ্যস্থতাকারীদের উচিত তাদের বিষয়টিই আগে সমাধান করা।
তবে ঠিক কোন দেশগুলো মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সাধারণত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কাতার ও ওমানের মতো দেশগুলো মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু এবারের সংঘাতের প্রভাব সেই দেশগুলোকেও ছুঁয়ে গেছে। এসব দেশের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরান পাল্টা হামলা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। রাজধানী তেহরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকাও তখন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন বলে দাবি করা হয়।
এর জবাবে ইরান ইসরায়েলের ভূখণ্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে চলমান এই সংঘাতের প্রভাব এখন পুরো অঞ্চলের দেশগুলোকেই উদ্বিগ্ন করে তুলেছে


