
ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ সামনে রেখে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর অংশগ্রহণ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এবারের আসরে মোট ১৪টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ খেলছে, যা প্রথমবারের মতো একটি নজিরবিহীন রেকর্ড। এর মধ্যে ১১টি দেশ সরাসরি কোয়ালিফাই করেছে, এবং বাকি ৩টি দেশ প্লে-অফের মাধ্যমে মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। প্লে-অফ খেলা এই তিন দেশের মধ্যে রয়েছে তুর্কিয়ে, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, আর একটি দল মূল বাছাই পর্ব পেরিয়ে এসেছে।
বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে ইরাক ও তুর্কিয়ে। ইরাক ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরছে, আর তুর্কিয়ে খেলছে প্রায় ২৪ বছর পর। এছাড়া সৌদি আরব, ইরান, কাতার, জর্ডান, তিউনিশিয়া, আলজেরিয়া, সেনেগাল ও মিশর সরাসরি কোয়ালিফাই করেছে।
ফরম্যাট পরিবর্তনের কারণে এবারের টুর্নামেন্টে দল সংখ্যা ৩২ থেকে ৪৮-এ বৃদ্ধি পেয়েছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের উপস্থিতি আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে—২০২২ বিশ্বকাপে সংখ্যা ছিল ৬টি (১৮.৭৫%), এবার বেড়ে হয়েছে ১৪টি দেশ (প্রায় ৩০%)।
মহাদেশভিত্তিক বিশ্লেষণে:
- এশিয়া: সৌদি আরব, কাতার, জর্ডান, ইরান, ইরাক, উজবেকিস্তান
- আফ্রিকা: নাইজেরিয়া, আলজেরিয়া, মরক্কো, তিউনিশিয়া, মিশর, সেনেগাল
- ইউরোপ: তুর্কিয়ে, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
- উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা: কোনো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ নেই
মহাযজ্ঞে মুসলিম খেলোয়াড়দের উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপের শীর্ষ দলগুলোতেও মুসলিম ফুটবলাররা খেলছেন। এর মধ্যে লামিন ইয়ামাল, মোহাম্মদ সালাহ, কিলিয়ান এমবাপ্পে, ওসমান দেম্বেলে, ইব্রাহিমা কোনাতে, জামাল মুসিয়ালা, অ্যান্টোনিও রুডিগার, আরদা গুলের, এডিন জেকো ও সাদিও মানে রয়েছেন। এছাড়া ইরাক, ইরান ও সৌদি আরবসহ অন্যান্য মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের আরও অনেক নোটেবল খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন।
কোচিং স্টাফেও মুসলিম প্রতিনিধিত্ব দেখা যাচ্ছে। চারটি দেশের দায়িত্বে চারজন মুসলিম কোচ রয়েছেন। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ ওয়াহিদ (মরকো), সাবরি লামেসি (তিউনিশিয়া), জামাল সালামি (জর্ডান) এবং ইরানের একজন কোচ নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন।
মহত্বপূর্ণ ইতিহাসও রয়েছে—১৯৯৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে জিনেদিন জিদান, ২০১৪ সালে জার্মানির হয়ে মেসুত ওজিল ও সামি খেদিরা, ২০১৮ সালে ফ্রান্সের হয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে, ওসমান দেম্বেলে ও আদিল রামি বিশ্বকাপ জয়ী মুসলিম ফুটবলার হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন।
সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, খেলোয়াড় ও কোচদের উপস্থিতি ইতিহাসে সর্বোচ্চ, যা বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে তাদের গুরুত্ব আরও দৃশ্যমান করে তুলেছে।


