
ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচজয়ী অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং—যার ক্যারিয়ার যেন এক অনুপ্রেরণার মহাকাব্য। ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ‘প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ’ জয়ের গৌরবের পাশাপাশি ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে মাঠে ফেরা—সব মিলিয়ে তিনি এক সত্যিকারের যোদ্ধা।
সম্প্রতি ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন–এর সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে আলাপকালে যুবরাজ জানান, জীবনের এক পর্যায়ে তাকে জানানো হয়েছিল—তার হাতে বেঁচে থাকার সময় মাত্র তিন থেকে ছয় মাস।
২০১১ বিশ্বকাপ চলাকালীনই তিনি ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। শারীরিক কষ্ট ও অনিশ্চয়তাকে পাশে সরিয়ে রেখে দলের জন্য অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দেন তিনি। তবে টুর্নামেন্ট শেষে বুঝতে পারেন, তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে।
যুবরাজ স্মৃতিচারণ করে বলেন, ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে হঠাৎ সবকিছু বদলে যায়। তখন তিনি দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন এবং আন্তর্জাতিক সিরিজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সৌরভ গাঙ্গুলি অবসর নেওয়ার পর টেস্ট দলে জায়গা পাওয়ার স্বপ্নও পূরণ হতে যাচ্ছিল—যার জন্য দীর্ঘ সাত বছর অপেক্ষা করেছিলেন তিনি।
কিন্তু অসুস্থতা বাড়তে থাকলে চিকিৎসক ডা. নিতেশ রোহতাগি তাকে জানান, তার টিউমারটি হৃদপিণ্ড ও ফুসফুসের মাঝখানে অবস্থান করছে এবং দ্রুত চিকিৎসা না নিলে তিন থেকে ছয় মাসের বেশি বাঁচা সম্ভব নয়।
এরপর চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান যুবরাজ। সেখানে খ্যাতনামা চিকিৎসক ডা. লরেন্স এইনহর্ন–এর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেন। সে সময় তাকে জানানো হয়েছিল, হয়তো আর কখনো ক্রিকেট মাঠে ফেরা সম্ভব হবে না।
এই কঠিন সময়ে মানসিক লড়াইটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যুবরাজ বলেন, “আমি ভাবতাম, যদি ক্রিকেট খেলতে না পারি, তাহলে আমি কে?”
চিকিৎসার সময়ও ক্রিকেট থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারেননি তিনি। এ সময় তাকে দেখতে যান অনিল কুম্বলে ও শচীন টেন্ডুলকার। কুম্বলে তাকে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেন এবং সাময়িকভাবে ক্রিকেট থেকে মন সরিয়ে রাখতে বলেন।
তবে চিকিৎসক এইনহর্ন তাকে নতুন করে আশার আলো দেখান। তিনি আত্মবিশ্বাস দিয়ে বলেন, যুবরাজ সুস্থ হয়ে ফিরবেন এবং আর কখনো ক্যান্সারে আক্রান্ত হবেন না।
চিকিৎসা শেষ করে মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই জাতীয় দলে ফেরেন যুবরাজ। এরপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে একটি ম্যাচে ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ও হন, যদিও তখনও পুরোপুরি ফিট ছিলেন না।
জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াই জিতে ফিরে আসা যুবরাজ সিংয়ের গল্প আজও কোটি মানুষের কাছে সাহস আর অনুপ্রেরণার প্রতীক।


