ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান, এক ক্রু নিখোঁজ—উদ্ধারে তেহরান-ওয়াশিংটনের পাল্টাপাল্টি তৎপরতা

আন্তর্জাতিক

ইরানের আকাশে টানা ৩৫ দিন কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত না হলেও, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সেই পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। সেদিন একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

দুই সদস্যের ক্রু নিয়ে পরিচালিত জেটটিতে একজন পাইলট এবং অন্যজন অস্ত্র ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ছিলেন। ভূপাতনের পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় মার্কিন বাহিনী। তবে অন্য সদস্য এখনো নিখোঁজ, আর তাকে ঘিরেই শুরু হয়েছে এক ধরনের অঘোষিত প্রতিযোগিতা—কে আগে খুঁজে পায়, যুক্তরাষ্ট্র নাকি ইরান।

ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমে একটি ঘোষণা প্রচার করা হয়। এতে বলা হয়, কোনো নাগরিক যদি জীবিত অবস্থায় ‘শত্রু পাইলট’ আটক করে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে দেন, তাহলে তাকে পুরস্কৃত করা হবে। এই ঘোষণার পর নিখোঁজ ক্রুকে ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

অতীতেও ইরানে বিদেশি সামরিক সদস্যদের আটকের ঘটনা রয়েছে। ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখলের ঘটনায় ৬৬ জন মার্কিন নাগরিক জিম্মি হন, যাদের মধ্যে ৫২ জনকে ৪৪৪ দিন আটক রাখা হয়।

এছাড়া ২০১৬ সালে ইরানের জলসীমায় ভুল করে ঢুকে পড়া ১০ জন মার্কিন নাবিককে আটক করেছিল আইআরজিসি। পরে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, যুক্তরাজ্যের সেনারাও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। ২০০৭ সালে পারস্য উপসাগরে টহলের সময় ১৫ জন ব্রিটিশ নৌসেনাকে আটক করে ইরান। এর আগে ২০০৪ সালেও একই ধরনের ঘটনায় ব্রিটিশ সেনাদের কয়েকদিন ধরে আটক রাখা হয়েছিল।

সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক এই বিমান ভূপাতনের ঘটনায় নিখোঁজ মার্কিন ক্রুকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এখন প্রশ্ন—শেষ পর্যন্ত এই দৌড়ে কে এগিয়ে থাকবে।