
নারায়ণগঞ্জ শহরের গলাচিপা রেললাইন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন দুই রেলওয়ে পুলিশ সদস্য। রোববার বিকেলে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আহত দুজন হলেন মিজানুর রহমান ও আরিফ হোসেন। তারা দুজনই রেলওয়ে পুলিশ–এর নারায়ণগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত। হামলার ঘটনায় আটক হওয়া দুই ব্যক্তির নাম এখনো জানা যায়নি।
পুলিশের দাবি, মাদকবিরোধী অভিযানের সময় দুই ব্যক্তিকে আটক করা হলে তাদের সহযোগীরা এসে হামলা চালিয়ে আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তবে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, নিরপরাধ দুই ব্যক্তিকে আটক করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতা পুলিশের ওপর চড়াও হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বিকেলে শহরের গলাচিপা রেললাইন এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে দুই ব্যক্তিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন রেলওয়ে পুলিশের দুই সদস্য। এ সময় ওই দুই ব্যক্তি পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করেন এবং সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন।
চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে একদল লোক আটক দুজনকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে পাশের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিয়ে যায়। সেখানে পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন পুলিশ সদস্যদের ‘ভুয়া পুলিশ’ বলে মারধর শুরু করে। পরে আহত অবস্থায় সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান দুই পুলিশ সদস্য।
অন্যদিকে আটক হওয়া হাফিজুর ও রমজানের দাবি, তাঁরা শহরের কিল্লারপুল এলাকায় একটি ডাইং কারখানায় কাজ করেন। তাঁদের অভিযোগ, বিনা কারণে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরিয়ে সিএনজিতে তোলা হয়েছিল এবং তাঁদের কাছে থাকা টাকা ও মুঠোফোনও নিয়ে নেওয়া হয়। পরে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন এসে তাঁদের সিএনজি থেকে নামিয়ে দেন।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে রেলওয়ে ঢাকা থানা–র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে দুই ব্যক্তিকে গাঁজাসহ আটক করা হয়েছিল। পরে তাদের সহযোগীরা ‘মব’ সৃষ্টি করে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


