নয়াপল্টনে বিব্রত কনকচাঁপা, ফেসবুক স্ট্যাটাসে ক্ষোভ-হতাশার আভাস

বিনোদন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে মনোনয়ন না পেলেও বিষয়টি নিয়ে কখনো প্রকাশ্যে আক্ষেপ করেননি জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা। তবে এবার সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে গিয়ে ঢাকার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক নেত্রীর তোপের মুখে পড়েন তিনি।

ঘটনার পর সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দীর্ঘ একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন কনকচাঁপা। সেখানে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক পথচলা এবং নিজের ভেতরের কষ্টের কথা তুলে ধরেন তিনি।

স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, সব সিদ্ধান্তের ওপর তার আস্থা রয়েছে এবং দলীয় নীতিনির্ধারকদের প্রতিও সম্মান আছে। তিনি জানান, তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ২০১৩ সালে, যখন খালেদা জিয়া তাকে রাজনীতিতে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। তখনই তাকে সরাসরি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, যা তার জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং সে সময় নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও লড়াই চালিয়ে যান।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নিজের ক্ষতির দিকও তুলে ধরেন এই শিল্পী। তার ভাষায়, বিগত সময়ে তিনি মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গান গাইতে না পারার কষ্টের কথাও উল্লেখ করে বলেন, একজন শিল্পীর জন্য এটি সবচেয়ে বড় বেদনা।

সাম্প্রতিক নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়া নিয়েও তিনি বলেন, কষ্ট পেলেও তা মেনে নিয়েছেন। তবে তাকে নিয়ে মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, এটি পরিকল্পিতভাবে তাকে হেয় করার চেষ্টা।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি বলেন, মনোনয়ন চাওয়া সবার অধিকার, আর দলও যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবে—এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। নিজের সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের বিচার তিনি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। তবে এ ধরনের ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হলে তা দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।