
দক্ষিণ লেবাননের একটি বিস্তীর্ণ অংশ দখল করে ‘প্রতিরক্ষামূলক বাফার অঞ্চল’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে Israel। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী Israel Katz জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী লিতানি নদী পর্যন্ত এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করবে। এর মাধ্যমে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোকে নিরাপদ রাখাই মূল লক্ষ্য।
প্রকাশিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাস্তবায়িত হলে লেবাননের প্রায় এক-দশমাংশ ভূখণ্ড ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে। ইতিমধ্যেই লিতানি নদীর ওপর পাঁচটি সেতু ধ্বংস করেছে ইসরায়েলি সেনারা এবং সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর বাড়িঘর ধ্বংসের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তাদের দাবি, লক্ষ্যবস্তু বেসামরিক নয়, বরং Hezbollah-এর অবস্থান ধ্বংস করা।
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী Hezbollah বিষয়টিকে দেশটির জন্য ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছে। শীর্ষ নেতা Hassan Fadlallah বলেছেন, “এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করা ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই।”
দক্ষিণ লেবানন বহুদিন ধরেই ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দু। ২০০০ সাল পর্যন্ত ইসরায়েল এই অঞ্চলের কিছু অংশ দখল করেছিল। সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে আবারও সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে লেবাননে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাও বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গাজায় ব্যবহৃত কৌশলের মতো দক্ষিণ লেবাননেও ‘বাফার জোন’ তৈরি করতে চাইছে ইসরায়েল। তবে এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


